img

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে প্রাণহানির সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

সংস্থাটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৮৪৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে, যার মধ্যে ২০৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। তবে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ আরও প্রায় ১৭ হাজার ৯১ জনের সম্ভাব্য মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুতই বর্তমান ইসলামী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক বিশাল গণআন্দোলনে রূপ নেয়। বিশেষ করে ৮ জানুয়ারি থেকে দেশটির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বিক্ষোভ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ইরানি কর্তৃপক্ষ নজিরবিহীন দমন অভিযান চালাতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালিয়েছে। 

পরিস্থিতি আড়াল করতে দেশজুড়ে টানা ১৮ দিন ধরে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে, যাকে নজিরবিহীন এক ‘ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট’ হিসেবে বর্ণনা করছে নেটব্লকস।

এদিকে ইরানের এই অভ্যন্তরীণ সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে দ্বিধায় থাকলেও সম্প্রতি তিনি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। 

ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে একটি বিশাল নৌবহর পাঠাচ্ছে। এর জবাবে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যে কোনো ধরনের বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দিতে প্রস্তুত। তেহরান সরাসরি ওয়াশিংটনকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার জন্য সতর্ক করেছে।

মাঠপর্যায়ে তথ্যের অভাবে হতাহতের সঠিক পরিসংখ্যান বের করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এইচআরএএনএ-র তথ্যমতে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪১ হাজার ২৮৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান সরকার গত সপ্তাহে একটি সরকারি হিসাব প্রকাশ করেছিল যেখানে নিহতের সংখ্যা তিন হাজার ১১৭ জন বলে দাবি করা হয়। সরকারি ভাষ্যমতে, নিহতদের অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য অথবা দাঙ্গাবাজদের হাতে প্রাণ হারানো সাধারণ পথচারী।

তবে ইরানের বাইরে থেকে পরিচালিত ফার্সি ভাষার চ্যানেল ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ আরও ভয়াবহ দাবি করেছে। তাদের দাবি, গত ৮ ও ৯ জানুয়ারির মধ্যেই নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৩৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। 

যদিও এএফপি জানিয়েছে যে নথিপত্র ও সূত্রের বরাত দিয়ে করা এই দাবিটি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান অবস্থায় ইন্টারনেট শাটডাউনের কারণে বেসামরিক মানুষের ওপর চালানো এই প্রাণঘাতী অভিযানের প্রকৃত চিত্র এখনো বিশ্ববাসীর কাছে অস্পষ্টই রয়ে গেছে।

এই বিভাগের আরও খবর


সর্বশেষ